কর্ম ফল | Bengali modern short story


কলমে  -  শিউলি পান্ডা


- এটা তুমি কি বলছো শেখর? তুমি এভাবে আমাকে ছেড়ে যেতে পারো না । তুমি তো আমায় ভালোবাসো তাহলে ছেড়ে যাওয়ার কথা এখন কেনো বলছো শেখর ।
- যা শুনছো তাই বলছি... আর প্লিজ এভাবে প্যানপ্যান করো না তো অসহ্য লাগছে I need a break neha !
- তুমি এভাবে বলতে পারো না শেখর ... মাত্র আধ ঘন্টা আগেও আমরা একে অপরের বুকে ছিলাম । তাহলে এখন তুমি এই কথা কি ভাবে বলতে পারো।
- তোমার শরীরটা আমাকে এখন আর তেমন একটা টানে না নেহা... সেই আকর্ষণ টা এখন আর তোমার মধ্যে নেই । তোমার যত টাকা লাগে আমি তোমায়  দিতে রাজি আছি বাট I need a break !
- প্লিজ শেখর এইভাবে বলো না... তারমানে তুমি শুধু আমার শরীরটাকে ভালোবেসেছিলে ? আমাকে না ?
- তোমার মুখে অন্তত ভালোবাসার কথা মানায় না নেহা তুমিও তো আমায় আমার টাকা দেখেই ভালোবেসেছিলে আর আমি তোমার শরীর ।
- আমাদের পাঁচ বছরের সম্পর্ক শেখর... তোমার কথায় আমি আমাদের প্রথম সন্তানকে অবদি...
- স্টপ ইট নেহা ... তুমি নিজেই তো সেই সন্তানকে পৃথিবীতে আনতে চাওনি আর সেটা আমাদের দুজনেরই একটা মিসটেক ছিলো আর সেই জন্য তো আমি তোমায় কম টাকা দিইনি ।
- শেখর আই লাভ ইউ ! প্লিজ ডোন্ট গো !  তুমি যেভাবে বলবে আমি সেই ভাবেই তোমায় খুশি করার চেষ্টা করবো ।
- সেটা সম্ভব না নেহা তোমার শরীর টা কেমন যেনো এখন ডাল ভাত হয়ে গেছে আর একটা মানুষের এক খাবার খেতে কদিনই বা ভালো লাগে বলো.. তোমার বুকের ভাঁজ থেকে কোমরের তিল পর্যন্ত সম্পূর্ন টাই আমার কাছে এখন এক ঘেয়ে হয়ে গেছে ।
- এটা তুমি কি বলছো শেখর আমার শরীর তোমায় টানে না....তুমি শুধু শরীরটাই দেখলে আর ভালোবাসা সেটা...
- বলছি না তোমার মুখে ভালোবাসার কথা মানায় না .... anyway তোমার account এ ঠিক সময়ে টাকা ঢুকে যাবে byy  ! 
-  কালো মার্সিডিসের কাঁচ টা উঠিয়ে শেখর নেহার চোখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে যায় ... ডিসেম্বরের রাত শীত টা জাঁকিয়ে না পড়লেও বাইরে বেশ ভালোই শীত রয়েছে নেহা এখনো বেশ ঘোরের মধ্যেই রয়েছে ও এখনো ভাবতে পারছে না শেখর ওকে এভাবে চিট করবে।  রাত্রি প্রায় দশটা বাজতে চললো শীতের রাতে এমনিতেই রাস্তাঘাটে মানুষ জন কম থাকে তাই রাস্তায় কয়েকটা কুকুর ছাড়া তেমন কোনো মানুষ নেই....রাস্তায় এভাবে একলা হাঁটতে নেহার বেশ ভয় ভয় লাগছে কারণ দিনকাল যা মেয়েদের নিরাপত্তা কোথাও নেই ...  চৌরাস্তার মোড়ে ফুটপাথ ধরে আনমনে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কিছুদূরে কারোর হাসির শব্দে থমকে দাঁড়ায় নেহা। আশেপাশে তাকাতেই নেহার চোখ যায় অপজিট সাইডের ফুটপাথের দিকে .... মুহূর্তের মধ্যে নেহার পুরো পৃথিবীটা দোলা দিয়ে উঠলো .... রাজীব অজান্তেই নেহার মুখ ফুটে বেরিয়ে এলো রাজীবের নাম টা ... রাজীবের পাশে দোয়েল কে দেখে আরো অবাক হয় নেহা । মুহূর্তের মধ্যেই অতীত স্মৃতির কয়েক ঝলক নেহার চোখের সামনে ভেসে ওঠে ।

নেহা এক সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ছোটবেলাতে হার্ট অ্যাটাকে বাবা মারা যাওয়ার পর মায়েই অনেক কষ্টে ওকে মানুষ করেছে । একটু বড় হতে রাজীব ওদের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ায় । উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর ওর মা যখন সাফ জানিয়ে দিয়েছিলো আর পড়াতে পারবে না তখন রাজীবই ওকে নিজের টিউশনের টাকায় অনেক কষ্টে ওকে পড়িয়েছে ... মাস্টার্স কমপ্লিট করিয়েছে । রাজীব ছোটো থেকেই নেহাকে ভালোবাসতো এই কথাটা ওদের দুই পরিবারের লোকজনই জানতো কিন্তু নেহার স্বপ্ন ছিলো আকাশ ছোঁয়া তাই শেখরের কোম্পানি তে জয়েন করার পর শেখর যখন ওকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় নেহা নিজের আখের গোছানোর জন্য তখন শেখরের প্রস্তবে রাজি হয়ে অলীক সুখে গা ভাষায়। নিজের প্রোমোশনের জন্য নেহার তখন নিজের অনাগত প্রথম সন্তানকেও হত্যা করতে হাত কাঁপেনি ... নিজের উচ্চাকাঙ্খা আর লোভের জন্য নেহা রাজীবকে ছাড়লে নেহার মাও আর মেয়ের মুখ দেখেনি। দোয়েল ছিলো নেহার বেস্টফ্রেন্ড দোয়েল ও রাজীবকে ভালোবাসতো তাই নেহা ছেড়ে যাওয়ার পর রাজীব যখন সম্পূর্ন ভাবে ভেঙে পড়েছিলো তখন দোয়েলই রাজীবকে আগলে রেখেছিলো । আজ রাজীব একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার দোয়েল কে বিয়ে করে বেশ সুখেই আছে ।

নেহা এতক্ষনে খেয়াল করলো ওপাশের মানুষ টাও নেহার দিকে তাকিয়ে আছে তবে আজ আর তার চোখে নেহার জন্য কোনো ভালোবাসা নেই আজে কেবল একরাশ ঘৃণা। রাজীব কে ডাকতে গিয়েও থেমে যায় নেহা... কারণ রাজীব ততক্ষণে দোয়েলের হাত ধরে অনেক দূর এগিয়ে গেছে যেখান থেকে আজ আর হাজার ডাকলেও রাজীব পিছনে আর ফিরবে না । নোনা জলের স্রোত টা গেল বেয়ে আস্তে আস্তে নেহার ওপর হাতের ওপরের পড়ছে ... এই প্রথম নেহার নিজের কর্মফলের জন্য আপসোস হচ্ছে কিন্তু আপসোস অনুতাপ ছাড়া আজ আর নেহার কিছুই নেই।

Post a Comment

0 Comments