আমার সেই পুরনো গ্রামের বাড়ি Benglai Poetry

আমার সেই পুরনো গ্রামের বাড়ি

আমার সেই পুরনো গ্রামের বাড়ি
কলমে: অনিষ বসাক

বহুদিন পর দিলাম পারি,
আমার সেই পুরনো গ্রামের বাড়ি ।
মোটামোটি সব একই আছে , কিছুই বদলায়নি,  বদলেছে শুধু পথঘাট , নেই সেই আর ঘন বনানী। 
খুব বেশি বড় নয় , ছোটখাটো আমাদের বাড়ি ।
পুরোটাই ঘেরা , নলি বাঁশের বেড়া ,
আর সুপোরি গাছ পোতা সারি সারি ।
ছোট্ট গেট,  তাও নলি বাঁশের ।
আমাদের তিনটে মাত্র ঘর।
একটা বাবামায়ের,
একটা আমার ,
আর একটা রান্নাঘর । 
আমাদের ঘরের বারান্দাটা নিচু খুবই ,
উঠোন থেকে তার চাল ছোঁয়া যায় ।
ওই উঠোনে একটা তুলসী মন্দিরও আছে,মাটির ।
আমার মা ওটা নিজের হাতে বানিয়েছে ,খুবই সুন্দর। 
রোজ সকালে মা যখন গোবর ছড়া দিতো ,
ওই মন্দিরটাও গোবর জলে নিকাতো ।
বেশ সুন্দর দেখাতো _মন্দিরটা।
এখন আর কেউ গোবর ছড়া দেয় না ।
তুলসী গাছটাও আর নেই । মরে গেছে ।
মন্দিরটা আজ জীর্ণ , বৃষ্টির জলে ধুয়ে গেছে ।
সুপোরি গাছ গুলি আছে এখনো ,
পাতা গুলো মরা মরা যেন,
জড়িয়ে আছে ধুলায় ,
কিছুদিন বৃষ্টি হয়নি মনে হয় ।
যাইহোক _____
ঘরে  যাওয়ার অছিলায় ,
ওদের জানালাম বিদায় ,
এগিয়ে গেলাম ।
দেখলাম ______
বাবামায়ের ঘরের  দরজার দু গায় ,
যে আলপনা আঁকা ছিলো , সেটাও আর নেই ।
কি করে থাকবে ...কত দিন হয়ে গেছে ,
তাই জন্যেইতো মুছে গেছে ।
দরজাটা খোলাই আছে,
ভেতরে গেলাম।
ঘরটা একেবারে ফাঁকা ,
দেয়ালে কিছু পেন্সিলের আঁকা ।
আঁকা গুলো আমাদের নয় ,
আমার মনে হয় ____
এটা গ্রামেরই কচি কাঁচাদের কাজ ।
এই ফাঁকা ঘরে,ওরা খেলা করে,অবসরে,
সকাল কিংবা সাঁঝ।
দক্ষিণের জানলাটা আজ এক্কেবারে শান্ত ,
আগে কত কি কান্ডটাই না করতো ।
আর ওপারের লেবু বাগানটা,কি সুন্দর গন্ধ ছড়াতো,ভরিয়ে দিতো আমাদের  সারা ঘরটা ।
হয়তো বাগানটাও আর নেই,
জানলাটা খোলার চেষ্টা করলাম , খুললো না ।
বুঝলাম , মরচে ধরেছে কব্জায় ।
বেশি জোর করলাম না ' পাছে ভেঙে যায় । 

পুরনো কত স্মৃতির ভেলা
হৃদয় সাগরে করলো খেলা ,
শাক্ষি দিলো চোখের বালি ।
অসাড় করিল দেহ ,
শুধু,সেই জাগিয়া রহিল খালি ।

কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এলাম,
ঐ ঘরের ঠিক পাশেই আমার ঘর।
আমার সেই ভাঙ্গা চৌকাঠ পেরোবার পরে,
থমকে " দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ ধরে ।
সহসা বুকের স্পন্দনটার ও বারলো গতি ।
মনে হলো ,
                   এটাই সব চাইতে বড় ক্ষতি ,
করেছিলাম আমার জীবনের প্রতি ।
হঠাৎ ' চেঁচিয়ে উঠলাম ____
ওরে -তোর তো শুধু একটা পা ভাঙা ছিলো _
আজ পুরো শরীরটাই যে শেষ করেছিস !
সঙ্গী পাসনি বুঝি ?
ওঃ__  অভিমান ?
সঙ্গে নিইনি বলে ?
কেন করলি তুই এতো অভিমান ?
তুই কি জানিস না ...
জীবনে নতুন কিছু যখন আসে
তখন পুরনোকে সবাই ভুলে যায়
কেউ নেয় না তাকে পাশে ।
তোর মনে পরে ___
সেদিন মায়ের ওপরে অভিমান করে, 
খুব কেঁদেছিলাম , মাথা রেখে
তোর ঐ বুকের পরে ।
কত রাত জেগেছি দুজনে ,
আবোল তাবোল কত কি লিখেছি ,
চেষ্টা করেছি কবিতা লেখার ,
তখন সঙ্গী ছিলি শুধু মাত্র তুই ।
তবুও দেখ আমি তোকে দিব্যি ভুলে গেছি ।
তুই হয়তো আজও মনে রেখেছিস আমাকে ।
তাই তো তিলে তিলে শেষ করেছিস নিজেকে ।
জানিস -________
এখন আর আমি আবোল তাবোল লিখি না ।
ছন্দ এসেছে লেখায় ।
কিছু কবিতারও জন্ম দিয়েছি ।
প্রকাশ পায়নি কোথাও , তবে
এবার পাঠাবো পত্রিকায় ।। 
তোকে দেখে নিজের ওপরে ভীষণ রাগ হচ্ছে এখন ।
জ্বলে যাচ্ছে প্রতিটা শিরায় শিরায় । । ॥

কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষন্ন মেঘে ছেয়ে নিলো মন
ততক্ষণে শান্তও হয়ে গেছে আমার হৃদ স্পন্দন ।
হাজার প্রশ্নের ভিড় , অস্থির , চোখের কোনে
নামলো বৃষ্টি শুনলো না বারণ । 

কেন তোকে একা ফেলে গিয়েছিলাম বলতো ?
তুই শুধূ মাত্র একটা পা ভাঙ্গা টেবিল বলে ?
ভুলে গিয়েছিলাম ..
তুই ই তো আমার প্রথম জীবনের সঙ্গী ।
তুই ই তো আমার কবিতা লেখার প্রথম হাতেখড়ি ।
ইস ....কত কষ্ট , কত যন্ত্রণায় ...
নিজেকে শেষ করেছিস তুই !
না ...এবার আর সেই ভুল করছি না
এবার তোর অপেক্ষার দিন শেষ ।
আবার তোকে উঠে দাঁড়াতে হবে ,
তোকে আবার নতুন করে বাঁচতে হবে ,
হতে হবে আবার আমার সেই সঙ্গী ।
যত অভিমান জমা হয়ে আছে তোর ওই বুকে
মুছে দিয়ে , তুই একবার শুধু হাত রেখে দেখ
আমার বুকে
তুই আজো আছিস সেইখানে " একই রকম ,
ভুলে যাই নি তোকে ।
তাই তো আবার এলাম ফিরে তোর ই টানে,
সঙ্গী হবি তুই আমার সুখ দুঃখের দিনে।
আজ -আমিও বড্ডো একা রে
বড্ডো ক্লান্ত ।
তোর ই মতো ।
একমাত্র তুই ই আমার পথের দিশারি
তাই তো...
আবার দিলাম পারি,
আমার এই পুরনো গ্রামের বাড়ি ।
            _______________

Post a Comment

0 Comments