তোমায় ভালোবেসে

ট্রেন


                                              (১)

অফিস শেষে ট্রেনের উদ্দেশে খুব দ্রুত ছুটছিল তৃণা। শিয়ালদা স্টেশনের দু নম্বর প্লাটফর্ম ওভারটেকের মুহুর্তে চড়াৎ করে একটা শব্দ হল। 
যাহ! শাড়িটা ছিঁড়ে গেছে। 
রাগে গজগজ করতে করতে পেছনে ঘুরল সে। আরে একি! লোকটা সরি টরি না বলে নিস্পৃহ ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। 
যদিও তৃণা খুব ব্যাস্ত ছিল।তবুও লোকটার সামনে গিয়ে দাড়ল। একটা শিক্ষা দেওয়া দরকার এইসব লোফারদের ।
-ছিড়লেন তো শাড়িটা? সরি পর্যন্ত বললেন ......
মুখের কথা মুখেই রয়ে গেল।শুধু মেরুদণ্ড বেয়ে একটা শীতল স্রোত শিরশির করে নিচে নেমে গেল।

                                             (২)

পাঁচ বছর আগে যার সঙ্গে তৃণার ব্রেকআপ হয়েছিল, এই সেই অভীক!
অভীককে দেখে তৃণা অগ্নিমূর্তি ধারন করল।
একটা সজোরে থাপ্পড় মারল অভীককে। তারপর খপ করে কলার ধরে বলল
-হাঁদারাম।যা বলেছি তুই কি তাই করবি সবসময়। নিজের কোনও বুদ্ধিশুদ্ধি নেই। আবার মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে দেওয়া হচ্ছে।লম্ফট কোথাকার। আমি পাঁচ বছর ধরে মেসেজ করে চলেছি কোনও রিপ্লে নেই। ফের যদি কোনও মেয়ের সাথে দেখেছি তাহলে ঠ্যাং ভেঙে দেব।
হতভম্ব অভীক হ্যাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল। শুধু অনুভব করল একটা বেদনার ঝড় তার বুকে আছড়ে পড়েছে। আর উষ্ণ বৃষ্টির অবিরাম বর্ষন ডান কাঁধটা ভাসিয়ে দিচ্ছে। অভীকও তৃণাকে আলতো করে জড়িয়ে নিল।



                                         (সমাপ্ত)

Post a Comment

0 Comments