শরৎ- Original Bengali poetry

শরৎ

kashful


হাসিছে রবি প্রভাতে বুঝি কিবা ক্ষতি তাতে ভাই?
শারদ প্রভাতে মুখরিত সবই আনন্দে হাসে তাই।
         বরষার ভরসায় বসে থেকে নেই কাজ
         সকাল কুয়াশার আঁচলে ঢাকিয়া লাজ
শিউলিরা মুখটিপে হেসে হেসে ঝরে যায়
মনে মনে ভাবে তারা শ্রী পায়ে  পড়ে তাই।
কোকিলেরা কুহু ডাকে বলে যায় কানে কানে
হাতে কর সব কাজ হরি বল মনে মনে ।
গো সবে উড়াইয়া ধূলো ছুটে যায় মাঠে
বৎস বৎসার মুখ ফেরে বাটে বাটে।
   কুলু কুলু ভঙ্গিতে তরঙ্গ বহিয়া যায়
  একা মাঝি খেয়াঘাটে ঘুমেতে ঢুলিছে প্রায়।
পাখিসবে কলরবে বলিছে " ওঠো ভাই
আলস্য কর ত্যাগ , প্রভাতে ঘুমোতে নাই।"
কেয়া ফুল হেসে চলে নাহি চোখে কান্না
শুধাইলে বলে " শুন, কেহ তো অপর না।"
ধীরে ধীরে রবি মামা তরু শাখে চড়িছে
চারিদিকে উছলিয়া কলরব বাড়িছে।
কুমোরেরা আড়ভেঙে প্রতিমার সামনে
মাটির লেপা দিয়ে তাজা করে ক্যামনে।
এইবেলা দেখে যাই দেখার কি আছে আর
সারি সারি দাড়ায়ে ভগবতী পরিবার।
কান পেতে শোনা যায় ,ওদিকের গুঞ্জন
ঘাটে বসে কথা বলে , সিক্ত যে বধূগন।


সাঁকো শির সোজা করে উপকারে দাড়ায়ে
কবে তারে নেবে রাঁধা দুটি হাত বাড়ায়ে।
শাপলা শালুকেতে ঝিল বিল একাকার
ভালোবেসে পদ্মকে বলে সবে ও আমার।
বৈষ্ণবে রাধে বলে হাত তোলে বারবার
উঁচু নিচু নাহি ভেদ মিলেমিশে একাকার।
শরতের আকাশেতে সাদা সাদা মেঘ বয়
বাঁধানো মুক্তো দাঁতে দেতো হাসি হেসে যায়।
বাতাসে লাগে বড় পুজো পুজো গন্ধ
কারিগর দেব পুজো!  লাগে মনে সন্দ।
মাঠেতে কৃষকেরা চাষবাস করে আর
কৃষানীরা ধান ভানে , ঝুটি নড়ে বার বার।


 স্নিগ্ধ কোমল তরুলতা
      মলয়ে দুলিয়ে কহে কথা।
"কোথা যাও এবেলা
       রবি মামা মাঝেতে।
মোরে না করিও হেলা,
       বসে যাও ছায়াতে।
শরতের একি রূপ!
        দেখে মাথা ঘুরে যায়।
চারিদিকে অপরূপ
        করজোড় করি তাই।

Post a Comment

0 Comments